খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনে নতুন সুযোগ, কমবে বিদেশমুখিতা ও চিকিৎসা ব্যয়

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৪০ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনে নতুন সুযোগ, কমবে বিদেশমুখিতা ও চিকিৎসা ব্যয়

যোগফল প্রতিবেদক: 

মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন-২০২৬’ পাসের ফলে দেশে কিডনি ও লিভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ প্রতিস্থাপনে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নিকটাত্মীয়ের বাইরে ‘ইমোশনাল ডোনার’ বা নিঃস্বার্থবাদী দাতার অঙ্গদানের আইনি সুযোগ তৈরি হওয়ায় রোগীদের বিদেশমুখিতা কমার পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয়ও সাশ্রয় হবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও আইনজীবীরা।

আইন অনুযায়ী, সরকারের অনুমতি নিয়ে অনুমোদিত নির্দিষ্ট হাসপাতালেই মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করা যাবে। সুস্থ ও স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন কোনো জীবিত ব্যক্তি অঙ্গ বিযুক্তির ফলে নিজের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি না হলে নিকটাত্মীয়ের জন্য অঙ্গ দান করতে পারবেন। একই শর্তে নিঃস্বার্থবাদী দাতাও নিকটাত্মীয় নন এমন কোনো ব্যক্তিকে অঙ্গ দান করতে পারবেন।

তবে চক্ষু, চর্ম, টিস্যু ও অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নিকটাত্মীয় বা নিঃস্বার্থবাদী দাতা হওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

নিঃস্বার্থবাদী দাতা নির্ধারণ ও অনুমতি প্রদান কমিটির সভাপতি এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, নতুন আইন দেশে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে। ইমোশনাল ডোনারের সুযোগ তৈরি হওয়ায় নিকটাত্মীয়ের বাইরে থেকেও অঙ্গদানের আইনি ব্যবস্থা হয়েছে।

তিনি জানান, গত ১০ আগস্ট বিএমইউতে প্রথমবারের মতো ইমোশনাল ডোনারের কাছ থেকে পাওয়া কিডনি সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। দেশে কিডনি ও লিভার প্রতিস্থাপনের সুযোগ বাড়লে এসব চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা কমবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান হাওলাদার জানান, সরকারি অনুদানে বিএমইউতে ইতোমধ্যে ছয়টি লিভার প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। একটি লিভার প্রতিস্থাপনে প্রায় ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। বিদেশে চিকিৎসা নিতে গেলে এর সঙ্গে বিমানভাড়া, হোটেলসহ অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হয়। দেশে উন্নত ও নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করা গেলে চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

ব্রেইন ডেথ ঘোষণায় নির্দিষ্ট শর্ত

নতুন আইনে ব্রেইন ডেথ ঘোষণার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তিকে ব্রেইন ডেথ ঘোষণা করতে হলে কিছু শর্তসাপেক্ষে তাকে অন্তত ১২ ঘণ্টা সুস্পষ্ট কারণে অবিরাম কোমা অবস্থায় থাকতে হবে।

২ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুর ব্রেইন ডেথ ঘোষণার ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাম (ইইজি) পরীক্ষার মাধ্যমে অন্তত ১২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

মেডিসিন, ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন, নিউরোলজি ও অ্যানেসথেশিওলজি বিষয়ের অন্তত তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি ব্রেইন ডেথ ঘোষণা করতে পারবে। তবে এ কমিটির কোনো চিকিৎসক বা তার নিকটাত্মীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারবেন না।

দাতা ও গ্রহীতার বয়সসীমা

আইন অনুযায়ী, ব্রেইন ডেথ ঘোষিত ব্যক্তির ক্যাডাভেরিক অঙ্গ সংগ্রহের ক্ষেত্রে দাতার বয়স ২ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে হতে হবে। জীবিত দাতার ক্ষেত্রে বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৬৫ বছর। বিশেষ প্রয়োজনে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিল করা যাবে।

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গ্রহীতার বয়স ২ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে হতে হবে। তবে ১৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী ব্যক্তিরা অঙ্গ গ্রহীতার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। কর্নিয়া, চর্ম ও টিস্যু প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য নয়।

ইমোশনাল ডোনারের যোগ্যতা

আইনে নিঃস্বার্থবাদী বা ইমোশনাল ডোনারের জন্যও নির্দিষ্ট যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। দাতাকে ১৮ বছরের বেশি বয়সী, মানসিকভাবে সুস্থ এবং সজ্ঞানে সম্মতি প্রদানে সক্ষম হতে হবে। কোনো আর্থিক প্রলোভন বা চাপ ছাড়া স্বেচ্ছায় অঙ্গদানে আগ্রহী হতে হবে। তিনি গ্রহীতার নিকটাত্মীয় না হলেও দীর্ঘদিনের পরিচিত হতে পারেন।

তবে মাদকাসক্ত, আর্থিক প্রলোভনে অঙ্গদানে আগ্রহী ব্যক্তি কিংবা সাধারণ অঙ্গদাতা হিসেবে অনুপযুক্ত কোনো ব্যক্তি নিঃস্বার্থবাদী দাতা হতে পারবেন না। এ ধরনের দাতাকে নির্ধারণ ও অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশ প্রয়োজন হবে।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, আগে আইনে দাতার সংজ্ঞা সংকীর্ণ থাকায় মূলত নিকটাত্মীয়দের মধ্যেই অঙ্গদানের সুযোগ সীমিত ছিল। এ সীমাবদ্ধতা দূর করতে তিনি হাইকোর্টে রিট মামলা করেন।

তিনি বলেন, হাইকোর্টের রায়ের পর যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে ইমোশনাল ডোনারের কাছ থেকে কিডনিসহ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গ্রহণের পথ তৈরি হয়। এর ধারাবাহিকতায় নতুন আইন পাস হয়েছে। আইনটির সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা গেলে দেশে অঙ্গদানের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং রোগীদের বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা কমবে।

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেনাবেচা নিষিদ্ধ

আইনের ১৮ ধারায় মানবদেহের কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্রয়-বিক্রয়, এর বিনিময়ে কোনো সুবিধা গ্রহণ এবং এ বিষয়ে বিজ্ঞাপন বা প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নিকটাত্মীয়তার বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়া, কাউকে এমন তথ্য দিতে উৎসাহিত বা প্ররোচিত করা কিংবা ভয় দেখানো অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

এ ছাড়া আইনের অন্য কোনো বিধান লঙ্ঘন বা লঙ্ঘনে সহায়তা করলে সর্বোচ্চ তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

কোনো চিকিৎসক এ আইনের অধীনে অপরাধে দণ্ডিত হলে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল কর্তৃক দেওয়া তার নিবন্ধন বাতিল হবে। কোনো হাসপাতালে এ আইনের অধীনে অপরাধ সংঘটিত হলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের অনুমতি বাতিলের পাশাপাশি অর্থদণ্ড আরোপ এবং হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিত করা যেতে পারে।

নতুন আইন কার্যকর হলে দেশে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনের সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা কমবে এবং ব্যয়ও সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি; মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি; মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার পাইকগাছায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে ফোনে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাটের রামপাল এলাকা থেকে কথিত ‘ডন বাবু’ ওরফে ‘গ্রেনেড বাবু’ এবং ‘নবাব’ নামে পরিচিত মোল্লা ইয়ামিন, তাঁর মা শাহিদা বেগম (৫০) ও স্ত্রী হিরা আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর এবং দ্বিতীয় দফায় ২৫ অক্টোবর পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জিএম আব্দুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আক্কাজ আলীর কাছে ফোন করে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁরা পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলাগুলো পাইকগাছা থানায় ২৭ ও ২৮ নম্বর হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে, তারিখ ২৭/১০ বলে জানা গেছে।

মামলা দায়েরের পর জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুকের নির্দেশনায় এবং পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবিরের সার্বিক দিকনির্দেশনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাটের রামপাল এলাকা থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে পাইকগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ আব্দুল আউয়াল কবির জানান, জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা অভিযান পরিচালনা করে বহুল আলোচিত ফোনে চাঁদাবাজির ঘটনার ৩ আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। তার নামে দেশের বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে। 

এদিকে, গত ২৬ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদের কাছে সর্বহারা পার্টির পরিচয় দিয়ে আসলাম শিকদার নামে এক ব্যক্তি চাঁদা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লা

সাইফুল ইসলাম  ।। গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি 

গোপালগঞ্জে চাঞ্চল্যকর শিশু তালহা হত্যা মামলায় আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লা নামে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

একই মামলায় অপর এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে গোপালগঞ্জ শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাওন মোল্লা পলাতক রয়েছে। 

মামলার অপর আসামি লেয়াকত আলী মোল্লাকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের মানজুরুল ইসলামের ১২ বছর বয়সী ছেলে তালহা ওরফে মুহিন মাছ ধরা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে মানজুরুল ইসলামের ভাড়াটিয়া আমিন উদ্দিনের ঘরে থাকা একটি ট্রাংক থেকে মুহিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মানজুরুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। তবে রায়ে নিহতের পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও আসামি পক্ষের আইনজীবী উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন।
মামলার বাদী ও ভিকটিমের পিতা মনজুরুল ইসলাম রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম এবং আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড.এম জুলকদর রহমান।

নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান ফটকের সামনে আমরণ অনশন করছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান। অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে দাবি করেছে দলটি।

রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে আমজনতার দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরণ অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তারেক রহমান। তিনি বর্তমানে ‘জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে’ রয়েছেন বলে দাবি করে তাঁর জীবন রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

দলটির নিবন্ধনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পাশাপাশি অনশনরত তারেক রহমানের জীবন রক্ষায় নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

গত ৪ নভেম্বর বিকেল থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের প্রধান ফটকে অনশন করছেন তারেক রহমান। তাঁর কর্মসূচির প্রতি বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি জানিয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তারেক রহমানকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একজন সংগ্রামী ও সাহসী তরুণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান, ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে তিনি আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পার হলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে দলটি মনে করছে। নিবন্ধনের দাবির বিষয়ে কমিশনের নীরবতা ও উদাসীনতা জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি করছে বলেও দাবি করা হয়।

তারেক রহমানের সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে এর সম্পূর্ণ দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে বলে বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম